কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিকভাবে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’কে ইরানের ‘ক্ষমতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার’ এবং ‘ঐশ্বরিক উপহার’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ। আন্তর্জাতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়া সত্ত্বেও, এই জলপথের ওপর তেহরান তার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব বজায় রাখবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ক্যালিবাফ এই জোরালো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের সেবামূল্যের (টোল) ক্ষেত্রে কেবল সাময়িকভাবে ৬০ দিনের একটি বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে এই কৌশলগত জলপথের ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্বে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসবে না।
ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পিকার ক্যালিবাফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এগুলো সম্পূর্ণ আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা। ইরান হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণ করেছে– এমন কাল্পনিক দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের বিতর্ক বা কূটতর্ক সৃষ্টির সুযোগ আমরা দেব না।” যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান এই অবস্থান থেকে একচুলও পিছু হটবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
চলমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার দিকে ইঙ্গিত করে ক্যালিবাফ হরমুজ প্রণালিকে খোদার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে এই জলপথটি আমাদের জন্য একটি ঐশ্বরিক উপহার। আর এটিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ক্ষমতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ও শক্তি।”
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে ইরানের কঠোর অবস্থান বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

