পাকিস্তানের লাহোরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালে ছাদ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ জন শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক শিক্ষার্থী চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি আবাসিক কোচিং সেন্টারে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় ওই বিশেষ কক্ষটিতে প্রায় ৩০ জন শিশু শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণে ব্যস্ত ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ পুরো ছাদটি ধসে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে।
দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে জরুরি উদ্ধারকারী দল ‘রেসকিউ ১১২২’। উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ জন শিক্ষার্থীকে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
কাহনা টিএইচকিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনা স্থল থেকে মোট ১৯ জন শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, হাসপাতালে আনার পর এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে ১৪ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বর্তমানে আরও পাঁচজন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন শিশুর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে রেসকিউ ১১২২-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে নির্দিষ্ট কক্ষটির ছাদ ধসে পড়েছে, সেটি মূলত দুর্বল ‘টি-আর গার্ডার’ (লোহার বিম ও ইট-সিমেন্টের তৈরি সস্তা ছাদ) দিয়ে নির্মিত ছিল। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বোঝা বা কাঠামোগত ত্রুটির কারণে সেটি হঠাৎ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী অলৌকিক কিছুর আশায় আটকে থাকতে পারে। তাদের নিরাপদে বের করে আনতে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে ছাদ ধসের প্রকৃত ও আনুষ্ঠানিক কারণ খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

