গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১,৩০৭ জনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে এবং ৩৭৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইতুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশে নতুন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্থ আরেকটি প্রদেশ ওত-উয়েলেতে। কঙ্গো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতুরির রাজধানী বুনিয়া থেকে একজন সংক্রমিত ব্যক্তি ওত-উয়েলে ভ্রমণ করার পর সেখানে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এখন সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। ওত-উয়েলেতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ায় কঙ্গোর পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস। সংঘাত-বিধ্বস্ত ইতুরি প্রদেশটি দেশের সর্বশেষ এবং ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকা, যেখানে গত মে মাস থেকে সংক্রমণ বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। মৃত ব্যক্তির দেহ স্পর্শ করার কারণে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করছে। স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাসের কারণে সাহায্যকর্মীরা নিরাপদে দাফনের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কঙ্গোতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রায়ই কয়েক দিন ধরে চলে, এবং এ সময় পরিবারের সদস্যরা মৃত ব্যক্তির দেহ স্পর্শ করেন যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা।
ইতুরি প্রদেশের রুয়ামপারার একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ক্যাথরিন ওয়ামবুয়া-সোই জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রায়ই পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রগুলো বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছে। গত মাসে এক বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁবুগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখনও অনেক কঙ্গোবাসী সাহায্যকর্মীদের বিশ্বাস করেন না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

