রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন থানায় দায়ের করা দুটি হত্যা এবং একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় অবশেষে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও দেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী মমতাজ বেগম। সোমবার (২৯ জুন) জামিন আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করে এই রায় দেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ জারি করেন। আদালতে মমতাজ বেগমের জামিন আবেদনের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আইনজীবী সারা হোসেন এবং আইনজীবী খায়রুন্নেসা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
সংশ্লিষ্ট আদালত ও আইনি সূত্র জানিয়েছে, বিগত সময়ে মানিকগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এই সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন চেয়ে পূর্বে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ইতিপূর্বে উচ্চ আদালত থেকে একটি রুল জারি করা হয়। সোমবার সেই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত মমতাজের পক্ষে জারি করা রুলটি যথাযথ বা ‘অ্যাবসোলিউট’ ঘোষণা করে স্থায়ী জামিনের এই আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মে রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার একটি বাসভবন থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে এই দুটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি অবস্থায় দিন পার করছিলেন।
লোকগানের জন্য দেশ ও বিদেশে সমানভাবে জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া এর আগে তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনেরও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিন মেলায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

