প্রধান খবর

কঠোর অবস্থানে সৌদি আরব: এক সপ্তাহে ১৫ হাজারেরও বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবাসন বা আকামা, শ্রম আইন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৫,২৩১ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১১,২৯৭ জন অবৈধ বাসিন্দাকে ইতিমধ্যে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা বহিষ্কার করা হয়েছে।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ১৮ থেকে ২৪ জুনের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ সমন্বয়ে এই বিশাল অভিযান পরিচালিত হয়। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাসস্থান বা আকামা আইন লঙ্ঘন করেছেন ৭,৫৮৯ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন অমান্য করেছেন ৪,৪৪৩ জন এবং প্রচলিত শ্রম আইন অমান্যের দায়ে আটক হয়েছেন ৩,১৯৯ জন প্রবাসী।

প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ১৫,১০৯ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে তাদের প্রয়োজনীয় আউটপাস বা ভ্রমণের জরুরি নথিপত্র সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশন বা দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৩,৬১৮ জনকে বিমান টিকিট বুকিং ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সরাসরি বহিষ্কার কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ২৪,৩৩৪ জন পুরুষ এবং ২,০৭৩ জন নারীসহ মোট ২৬,৪০৭ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সীমান্ত পার হয়ে অবৈধ উপায়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১,৭৬৩ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ান, ৪৪ percent ইয়েমেনি এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য বিভিন্ন দেশের নাগরিক। অন্যদিকে, অবৈধ উপায়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টাকালে আরও ৫৩ জন এবং অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় প্রদান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধে ২২ জন স্থানীয় ও প্রবাসী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জালে ধরা পড়েছেন।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে কাউকে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে সুবিধা দেয়, যাতায়াতের ব্যবস্থা করে কিংবা থাকার জন্য আশ্রয়সহ অন্য কোনো পরিষেবা প্রদান করে, তবে তাকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ১০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন এবং আশ্রয় দেওয়া ঘরবাড়ি বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *