প্রধান খবর

৯ লাখ ডলারে বিক্রি সেই ন্যাপকিন, যেখান থেকে শুরু মেসির কিংবদন্তি

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দলিল হিসেবে পরিচিত লিওনেল মেসির প্রথম চুক্তিপত্র লেখা সেই ন্যাপকিন ২০২৪ সালের এক নিলামে প্রায় ৯ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। ছোট্ট একটি কাগজের টুকরো হলেও এটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান স্মারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর বার্সেলোনার এক রেস্তোরাঁয় এফসি বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাখ একটি ন্যাপকিনে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্লাবটি কিশোর লিওনেল মেসিকে দলে ভেড়াবে। মাত্র ১৩ বছর বয়সী মেসির প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সেই সময় গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন মেসি। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা পরিবারের পক্ষে ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্টিনার কয়েকটি ক্লাব তার প্রতিভা স্বীকার করলেও চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখায়নি। ঠিক সেই মুহূর্তে বার্সেলোনার উদ্যোগই বদলে দেয় তার জীবনের গতিপথ।

পরবর্তীতে বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় যোগ দিয়ে নিজের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটান মেসি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাপকিনটি শুধু একটি চুক্তিপত্র নয়; এটি প্রতিভা চিহ্নিতকরণ, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রতীক। মেসির গল্প দেখিয়ে দেয়, সঠিক সময়ে একটি সুযোগ একজন কিশোরকে বিশ্বের সেরাদের কাতারে পৌঁছে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *