নাটোরের লালপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গোধড়া বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধরা প্রায় এক ঘণ্টা নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে এবং একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দোহার সঙ্গে লালপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মজনু পাটোয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগে দোহার সমর্থক হাসান নামে এক যুবক মজনুকে নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। বুধবার রাতে স্থানীয় বাজারে মজনু বিষয়টি নিয়ে হাসানকে প্রশ্ন করলে তিনি ভিডিওটি মিথ্যা বলে স্বীকার করেন। তবে পরদিন হাসান থানায় অভিযোগ করেন, মজনু তাকে জোর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে আসে।
পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও হাসান ও মজনুর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বড়াইগ্রামের গুনাইহাটি গ্রামের রাশেদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তার আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে গুনাইহাটি এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে যোগ দেয়। পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় বিক্ষুব্ধরা মহাসড়ক অবরোধ করে এবং মজনু পাটোয়ারীর চাচাতো ভাই মোমিন পাটোয়ারীর একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ, ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি, বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্র এবং বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বড়াইগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম এবং লালপুর থানার ওসি (তদন্ত) এস এম সিরাজুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত রাশেদুল ইসলামকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

