আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানে আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল। উত্তর আমেরিকার মাটিতে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ফিরে এসেছে ১৯৮৬ সালের স্মৃতি, যখন দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়েছিল আর্জেন্টিনা। চার দশকের ব্যবধানে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে সেই ইতিহাস যেন নতুন করে প্রতিফলিত হলো।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও বিরতির পর ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির বাড়ানো বল থেকে বদলি খেলোয়াড় লাওতারো মার্তিনেজ জয়সূচক গোল করেন।
গোল না করেও ম্যাচের দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেসি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এক ম্যাচে ৯টি সফল ড্রিবল ও দুটি গোল তৈরির মাধ্যমে তিনি নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন। জয়ের পর তার আবেগঘন উদযাপন ফুটবলপ্রেমীদের মনে আবারও ম্যারাডোনার স্মৃতিকে উজ্জীবিত করেছে।
এই জয়ের ফলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে এখন নতুন স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় ম্যারাডোনা ও মেসির উত্তরাধিকারকে একই ধারাবাহিকতায় আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

