‘ইরান নয়, আমরাই হরমুজ অবরুদ্ধ করে রেখেছি’: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে নতুন এক বিতর্কিত দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরান নয় বরং মার্কিন বাহিনীই বর্তমানে এই সমুদ্রপথটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ইরান প্রকৃতপক্ষে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে চায় না। তিনি দাবি করেন, এই জলপথটি বন্ধ থাকার কারণে তেহরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে এবং ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইরান চায় এটি খোলা থাকুক যাতে তাদের আয় সচল থাকে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এটি বন্ধ করে দেওয়ায় তারা এখন শুধুই নিজেদের মুখরক্ষার চেষ্টা করছে।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, মাত্র চার দিন আগেই তাকে জানানো হয়েছিল ইরান অবিলম্বে এই সমুদ্রপথটি খুলে দেওয়ার পক্ষে। তবে তেহরানের এই ইচ্ছার বিপরীতে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি এখনই তাদের পথ ছেড়ে দেয়, তবে ইরানের সঙ্গে কখনোই কোনো ফলপ্রসূ চুক্তি করা সম্ভব হবে না।”

একইসাথে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না ইরানের বাকি অংশ এবং তাদের নেতাদের ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন অবস্থান থেকে এক চুলও নড়বেন না তিনি। তাঁর এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, ওয়াশিংটন আলোচনার চেয়ে সামরিক ও কৌশলগত চাপ বজায় রাখতেই বর্তমানে বেশি আগ্রহী।

বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথটি অবরুদ্ধ থাকা মানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হওয়া। ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল আইনের পরিপন্থী হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। অন্যদিকে, ইরান ইতোমধ্যেই মার্কিন এই অবরোধকে ‘যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সরাসরি অবরোধের দাবি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও এই নির্দিষ্ট দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান এই ‘মুখরক্ষার’ তকমা মেনে নেবে না এবং অদূর ভবিষ্যতে সামরিকভাবে এর জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *