হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ের মুখে ইনশাআল্লাহ, নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

হলিউড পর্দায় তাঁর গ্ল্যামার আর অভিনয় দক্ষতা বরাবরই দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে এবার কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের এক সাক্ষাৎকারে একটি বিশেষ শব্দের ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ খ্যাত অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তাঁকে ‘ইনশাআল্লাহ’ (আল্লাহ চাহেন তো) শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

পিপল ম্যাগাজিন পরিচালিত একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে ৪৩ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী তাঁর বর্তমান জীবন, ক্যারিয়ার এবং বার্ধক্য নিয়ে নিজের দর্শন তুলে ধরছিলেন। দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করতে গিয়ে অত্যন্ত সাবলীলভাবে হ্যাথাওয়ে বলেন, “আমি একটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেতে চাই; ইনশাআল্লাহ, আমি তেমনটাই আশা করি।”

এই আরবি শব্দটির নিখুঁত উচ্চারণ এবং যথাযথ স্থানে এর ব্যবহার দেখে মুহূর্তেই চমকে যান ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। নেটিজেনদের মতে, অভিনেত্রী কেবল শব্দটি আওড়াননি, বরং এর গভীর অর্থ এবং প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও তিনি বেশ সচেতন।

ইন্টারনেটে যখন বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্রের অভিবাদন বা ধর্মীয় অনুষঙ্গ নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়, তখন অ্যান হ্যাথাওয়ের এই মার্জিত ভঙ্গিটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। অনেক ভক্তই মন্তব্য করেছেন, তাঁর বলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে তিনি অনেক আগে থেকেই এই শব্দের ব্যবহারের সাথে পরিচিত। কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, “অ্যান হ্যাথাওয়ে কি তবে আমাদের সংস্কৃতি ও দর্শনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন?”

সাক্ষাৎকারে হ্যাথাওয়ে কেবল এই শব্দটিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং জীবন নিয়ে তাঁর গভীর দার্শনিক চিন্তাও প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনি বার্ধক্যকে ভয় পাওয়ার বদলে কৌতূহল নিয়ে গ্রহণ করতে শিখেছেন। হ্যাথাওয়ে বলেন, “মানুষ সাধারণত দুটো জিনিসকে ভয় পায়—হয় বুড়ো হওয়াকে, নয়তো অল্প বয়সে মারা যাওয়াকে। আমি প্রথমটিকেই ইতিবাচক ও আশীর্বাদ হিসেবে দেখি।”

জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য ভক্তদের মাঝে বিশেষ প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, “বয়স ১১ হোক বা ৪৩, কেউ জানে না পরবর্তী মোড়ে কী অপেক্ষা করছে।”

অ্যান হ্যাথাওয়ের এই অকপট এবং জীবনমুখী আলাপচারিতা কেবল বিনোদন জগতের খবর হিসেবেই নয়, বরং সাংস্কৃতিক সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *