মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তেল সংকটের কারণে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায়, বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং ও ফুড ডেলিভারি খাতে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে চালকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির চাপে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখন শুধুই দীর্ঘ সারি। একেকজন চালককে জ্বালানি নিতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে অনেক চালক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমনকি পাম্প খোলার আগেই সিরিয়াল পাওয়ার আশায় অনেককে সারারাত লাইনে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ফলে চালকদের বিশ্রাম ও ঘুমের সময় যেমন কমেছে, তেমনি তেলের জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় হওয়ায় অনেক গাড়ির মালিক, চালকদের সাপ্তাহিক ছুটি পর্যন্ত বাতিল করে দিয়েছেন।
জ্বালানি সংকটের আগে একজন রাইড শেয়ারিং চালক দিনে সব খরচ বাদে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা আয় করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় পাম্পে নষ্ট হওয়ায় দিনে এক শিফটের বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। চালকদের দাবি, বর্তমানে তাদের দৈনিক আয় ৭০০-৮০০ টাকায় নেমে এসেছে, যা দিয়ে এই উচ্চমূল্যের বাজারে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো ভাড়া সমন্বয় না করায় চালকরা বাধ্য হয়ে চুক্তিতে যাতায়াত করছেন, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
তেল সংকটের অজুহাতে রাইড শেয়ারিং সেবায় ভাড়ার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। রাজধানীর বিভিন্ন রুটে আগে যেখানে ১২০-১৩০ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন চালকরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতের এই অস্থিরতা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ যাতায়াত ও খাদ্যদ্রব্যের দামের চাপে আরও সংকটে পড়বে। জ্বালানি খাতের এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

