প্রধান খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসছে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি’ (আইআরএনএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের খবরকে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। এই সংকটকালীন মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আলোচনার জন্য বিশেষ প্রতিনিধিদের পাকিস্তানে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, ঠিক তখনই ইরানের পক্ষ থেকে এই নেতিবাচক ঘোষণা এলো। তেহরানের দাবি, আলোচনার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র চাপের রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী।

আইআরএনএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি’ এবং ‘অবাস্তব প্রত্যাশা’র কারণে গঠনমূলক আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে যে, ওয়াশিংটন ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং ক্রমাগত স্ববিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে তথাকথিত ‘নৌ-অবরোধ’ এবং সাম্প্রতিক হুমকিমূলক বক্তব্য আলোচনার প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটে ফেলেছে।

তেহরান আরও স্পষ্ট করেছে যে, ওয়াশিংটন বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের আলোচনার পক্ষপাতি প্রমাণ করতে ‘দোষারোপের খেলা’ (Blame Game) খেলছে। ইরানের প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদ যাওয়ার বিষয়টি স্রেফ প্রোপাগান্ডা এবং এটি ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল মাত্র।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্থায়ী রূপ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। ২২ এপ্রিলের পর ওই অঞ্চলে পুনরায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার বৈরী আচরণ এবং নৌ-অবরোধের মতো পদক্ষেপ থেকে সরে না আসবে, ততক্ষণ কোনো আলোচনায় বসা অর্থহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *