ইসলামি শরিয়তের আলোকে সময় বা বছরের পরিবর্তনের সঙ্গে স্বতন্ত্র কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ যুক্ত নয়। তবে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে কিছু কার্যক্রম ইসলামি দৃষ্টিতে বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কিছু সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা ও প্রতীকী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এমন বিশ্বাস জড়িত থাকে, যা ইসলামি আকিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যে প্রতীকী বস্তু বা চিত্র ব্যবহারকে ইসলামে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয় না; বরং একমাত্র সৃষ্টিকর্তার ওপর নির্ভরতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
হাদিস ও কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, ইসলামে নতুন কোনো ধর্মীয় প্রথা সংযোজন বা অনুমোদনহীন আমল গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতির বিষয়টি কোরআনেও উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া নববর্ষ উদযাপনের সময় কিছু সামাজিক আচরণ যেমন অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক মেলামেশা কিংবা কুসংস্কারভিত্তিক বিশ্বাস এসব বিষয় নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইসলাম সংযম, শালীনতা ও যুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে অনেকেই নববর্ষকে একটি সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে দেখে থাকেন, যেখানে ধর্মীয় আচার নয় বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য উদযাপনই প্রধান। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে সমাজে ভিন্নমতও বিদ্যমান।

