প্রধান খবর

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ভোটাভুটি আজ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উত্তেজনা চলমান। বিষয়টি নিয়ে আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় অনুষ্ঠেয় এই অধিবেশনে নির্ধারণ হতে পারে পারস্য উপসাগরের এই সমুদ্রপথের ভবিষ্যৎ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক ৯ ঘণ্টা আগে এই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বাহরাইনের উত্থাপিত প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাবটি সম্ভাব্য ভেটোর মুখে পড়ায় তা সংশোধন করে কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। আগের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে সরাসরি সামরিক বলপ্রয়োগের অনুমোদনের কথা থাকলেও, নতুন সংশোধিত খসড়ায় ‘পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগে সমন্বয়’ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা বা ‘এসকর্ট’ দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ইরানকে স্পষ্টভাবে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকার কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে এই প্রস্তাবে।

নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটাভুটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন হোয়াইট হাউস থেকে ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আজ মঙ্গলবার ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তিতে আসার আল্টিমেটাম দিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান না এলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ‘এক রাতেই’ ধ্বংসাত্মক হামলার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ভাষ্যমতে, চুক্তি না হলে ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নেতারা ‘সৎভাবে’ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, তবে চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। আজকের এই ভোটাভুটিতে যদি প্রস্তাবটি পাস হয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করার আইনি ভিত্তি পাবে। আর যদি প্রস্তাবটি ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের সময়সীমা শেষে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *