মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরানে দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানি নাগরিকদের ট্রেন ভ্রমণ না করার বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই বিস্ফোরণগুলো ঘটল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, তেহরানের উত্তর দিকে ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে, যা শহরজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এর আগে সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের ফারসি ভাষার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় জানায়, “আপনার নিরাপত্তার স্বার্থে, আজ রাত ৯টা পর্যন্ত সারা দেশে ট্রেনে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।” রেললাইনের কাছাকাছি অবস্থান জীবন বিপন্ন করতে পারে- এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। স্থানীয় গণমাধ্যম মেহর ও শারঘও রাজধানীতে বিস্ফোরণের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এই হামলা ও বিস্ফোরণ এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে। ওয়াশিংটন সময় আজ রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা) মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এক রাতের মধ্যেই ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুমকিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধি উল্লেখ করে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুর মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া সরাসরি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তবে এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই তেহরানে বিস্ফোরণ এবং ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

