গালফ অঞ্চলে চলমান অর্থনৈতিক চাপ ও বাজার অস্থিরতা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে শ্রমব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের উপপরিচালক মাইকেল পেজ বলেছেন, এই সংকট কাফালা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাকে আরও প্রকট করেছে। তার মতে, শ্রমিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক এই ব্যবস্থার কারণে সংকটের সময় তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়ে গেছে। আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা টিকে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, মাসের শেষে খাবার জোগাড় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতেও সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। বহু কর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে, কারও বেতন কমানো হয়েছে, আবার কেউ চাকরি হারিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিজ খরচে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যা তাদের জন্য আরও বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, গালফ দেশগুলোর উচিত শ্রমিকদের সুরক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। সংস্থাটি ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রয়োজনে শ্রমিকদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মাইকেল পেজের মতে, সংকটের এই সময়টি প্রমাণ করেছে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাফালা ব্যবস্থার সংস্কার আর বিলম্ব করা যাবে না।

