প্রধান খবর

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা কেন?

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার প্রধান ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক মন্তব্যে ন্যাটো মিত্রদের ‘সহযোগিতা না করার’ অভিযোগ তুলছেন। বিশেষ করে ফ্রান্স ও ইতালি কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বাধা দেওয়ায় দুই পক্ষের দূরত্ব এখন প্রকাশ্য বিরোধে রূপ নিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতেই ট্রাম্প দীর্ঘদিনের ন্যাটো মিত্রদের সমর্থনের অভাবকে ‘কাপুরুষতা’ বলে আখ্যা দেন। মঙ্গলবার তিনি আবারও সেই দেশগুলোকে আক্রমণ করেন যারা মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় সহায়তা করেনি। ব্রিটেনকেও তিনি ‘অসহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “যেসব দেশ হরমুজ প্রণালীর কারণে জ্বালানি পাচ্ছে না কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিচ্ছে না, তাদের জন্য আমার পরামর্শ এক, আমেরিকার কাছ থেকে জ্বালানি কিনুন; দুই, সাহস থাকলে প্রণালীতে গিয়ে তা দখল করুন।”

যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও ব্রিটেন সবাই ন্যাটোর সদস্য। তবুও ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তাদের অবস্থান এখন ভিন্ন ভিন্ন দিকে। জার্মানিতে অবস্থিত ইউরোপের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি ‘রামস্টেইন’ ব্যবহারে কোনো বাধা নেই বলে জানানো হলেও, জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমায়ার যুদ্ধটিকে ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করায় দেশটিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এদিকে স্পেন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান হামলায় অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানগুলোর জন্য নিজেদের আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কড়া সমালোচক। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলস জানিয়েছেন, স্পেন কেবল ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের জন্যই তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটো জোটের ভেতর এই বিভাজন ভবিষ্যতে পশ্চিমা সামরিক সহযোগিতার কাঠামোকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *