চলমান বৈশ্বিক সংঘাত ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে (১-১৪ মার্চ) দেশে প্রায় ২.২০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৫.৭ শতাংশ বেশি।
সাধারণত ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মার্চ মাস শেষে হয়তো মোট রেমিট্যান্স আয় ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩.০২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের পুরো বছরে বৈধ পথে দেশে মোট ৩২.৮২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে।
বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একক দেশ হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয় করে প্রতিবেশী দেশ ভারত। দ্য ইকনোমিক টাইমস–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে ভারতের রেমিট্যান্স প্রবাহ রেকর্ড ১৩৫.৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস দেশ।
দক্ষিণ এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ দেশ পাকিস্তানও রেমিট্যান্স আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে দেশটির মোট রেমিট্যান্স আয় দাঁড়ায় ৩৮.৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ অর্থবছরের ৩০.৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২৬.৬ শতাংশ বেশি।
The Global Economy-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ১৩৭.৬৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া ম্যাক্সিকো ৬৭.৬৪ বিলিয়ন, ফিলিপাইন ৪০.২৮ বিলিয়ন, ফ্রান্স ৩৬.৮৬ বিলিয়ন, পাকিস্তান ৩৪.৯১ বিলিয়ন, চীন ৩১.৪১ বিলিয়ন, বাংলাদেশ ২৭.১২ বিলিয়ন, গুয়াতেমালা ২১.৬৫ বিলিয়ন এবং নাইজেরিয়া ২১.২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আয় করে।
দক্ষিণ এশিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভারত শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ারতথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ পর্যন্ত দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (স্বর্ণসহ) ছিল ৭১৬.৮১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বৈশ্বিকভাবে শীর্ষ রিজার্ভধারী দেশ চীনের কাছে রয়েছে প্রায় ৩.৪২৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫.১০৯ বিলিয়ন ডলার এবং নেট রিজার্ভ (বিপিএম–৬ অনুযায়ী) ছিল ৩০.৩৫৭ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১.৭০৪ বিলিয়ন ডলার।
বাস্তবতা হলো, একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক যুগেও বিশ্বের অধিকাংশ স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি মোকাবিলা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।
লেখা: সিরাজুর রহমান

