প্রধান খবর

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে প্রাণহানি: ‘মোজাইক কাঠামো’ ধরে রেখেছে সামরিক সক্ষমতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রবীণ সর্বোচ্চ নেতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবু ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের মাঝেও দেশটির শাসনব্যবস্থা কৌশল নির্ধারণ ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

আইআরজিসির দীর্ঘদিনের প্রস্তুত ‘মোজাইক’ বা খণ্ডিত সাংগঠনিক কাঠামোর কারণেই নেতৃত্বশূন্যতা বড় সংকটে পরিণত হয়নি। প্রতিটি কমান্ডারের জন্য আগে থেকেই বিকল্প উত্তরসূরি নির্ধারিত থাকে এবং প্রতিটি ইউনিট স্বাধীনভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারে।

গত বছর এবং যুদ্ধ শুরুর পর বহু শীর্ষ কমান্ডার নিহত হলেও তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। ১৯৮০-৮৮ সালের ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্ব দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসই এই সক্ষমতার ভিত্তি।

বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে যারা আছেন:

আহমদ ওয়াহিদি (আইআরজিসি প্রধান)
দু’জন পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব পেয়েছেন। কুদস ফোর্সের প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইসমাইল কানি (কুদস ফোর্স প্রধান)
২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকে ইউনিটটির নেতৃত্বে আছেন। আঞ্চলিক প্রক্সি ও মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আলিরেজা তাংসিরি (আইআরজিসি নৌ-প্রধান)
২০১৮ সাল থেকে দায়িত্বে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (স্পিকার)
সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার ও তেহরানের সাবেক মেয়র। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেপথ্য আলোচনায় তার নাম শোনা যাচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই (বিচার বিভাগীয় প্রধান)
সাবেক গোয়েন্দা প্রধান, কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালের বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার জন্য আলোচিত।

মাসুদ পেজেশকিয়ান (প্রেসিডেন্ট)
ক্ষমতা সীমিত হলেও সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় তার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনায় গার্ড বাহিনীর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

সাঈদ জলিলি (সাবেক নিরাপত্তা প্রধান)
কট্টরপন্থী নেতা ও সাবেক পরমাণু আলোচক। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন।

আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি (গার্ডিয়ান কাউন্সিল সদস্য)
খামেনির মৃত্যুর পর গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের সদস্য। অত্যন্ত বিশ্বস্ত ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত।

আব্বাস আরাঘচি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
অভিজ্ঞ কূটনীতিক, পশ্চিমা দেশসহ রাশিয়া, চীন ও আরব বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যুক্ত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *