সারা দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ৬১ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে সফল চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৫৭ হাজার ৬১০ জন। নতুন করে মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে ৫ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে একজনের বয়স ১১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এবং বাকি ৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। মোট ১৮৪ জন মৃতের মধ্যে নারী ৫০.৮ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৯.২ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর মে মাসের পর থেকেই দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। বছরের প্রথম চার মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কম থাকলেও জুন মাস থেকে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে মারা গেলেও মার্চ ও এপ্রিলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। মাসের প্রথম ২০ দিনেই ৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর একদিনেই সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান। মাসভিত্তিক রোগী ভর্তির পরিসংখ্যানে দেখা যায়—জানুয়ারিতে ১,০৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন, জুনে ২,৯০৭ জন, জুলাইয়ে ৯,২০৬ জন এবং আগস্টে ২০,৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বর মাসের এই অল্প কদিনেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬,১২৬ জনে।
ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায়-যেখানে ৫৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ২৩ জন, খুলনায় ৩৪ জন, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে ১৮ জন করে, বরিশালে ১৪ জন, রাজশাহীতে ৮ জন, রংপুরে ৪ জন, সিলেটে ১ জন এবং ঢাকার বাইরে অন্যান্য এলাকায় ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এডিস মশার বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

