“আমি ফাঁসি চাই না, দেশটা তলিয়ে যাক, এ দেশটা ধ্বংস হয়ে যাক! এ দেশের আর দরকার নাই”- একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এমনই ক্ষোভ ও শোকে ফেটে পড়েন কুমিল্লায় নিহত অপ্রতিমের মা। নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের কোটবাড়ীর বাড়িতে এখন শুধুই স্বজনদের শোকের মাতম। ঘরের দেয়ালে দেয়ালে জড়িয়ে থাকা সন্তানের হাসিমুখের স্মৃতি দেখে কান্না থামছেই না মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা নাহিদের। অন্যদিকে, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে প্রায় নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। তবে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে এলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে আকুল মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন। তবে সব আশা শেষ করে অবশেষে উদ্ধার হয় অপ্রতিমের মরদেহ; জীবিত আর ফেরেনি সে।
আজ রবিবার সকালে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে কোটবাড়ীর বাগমারা কবরস্থানে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়ে অপ্রতিমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
সন্তান হারানোর বিচার চেয়ে বিলাপের কণ্ঠে ড. নাহিদা নাহিদ প্রশ্ন করেন, “আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটাই কি আমার অপরাধ ছিল?” তার এই আকুল আর্তনাদে উপস্থিাত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এদিকে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কাজ জোরালোভাবে এগিয়ে চলছে।

