অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন হামলায় ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩ হাজার ৯১০ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৪ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল নতুন করে চারজনের মরদেহ এবং ১৭ জন আহতকে গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি আগের ঘটনার তথ্য যাচাই ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে আরও ৮৫ জনের মৃত্যুর পরিসংখ্যান মোট হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় প্রাণহানি থামেনি। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলা ও সহিংসতায় অন্তত ১ হাজার ৩৯০ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৮০১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপ ও বিভিন্ন উপদ্রুত এলাকা থেকে ৮৩১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গাজা সিটিতে একটি বেসামরিক গাড়িতে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও চারজন আহত হন। একই দিনে জাবালিয়ায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের ছেলে বাসির আল-বুরশও ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, বহু নিহতের মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে পড়ে রয়েছে। ক্রমাগত আক্রমণ ও অবকাঠামোগত ধ্বংসের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে চলা এই আগ্রাসনে হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা গাজায় এক চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

