প্রধান খবর

জ্বালানি সংকটে গাজার হাসপাতালে চিকিৎসা বিপর্যয়

জ্বালানির তীব্র সংকটের কারণে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে স্বাস্থ্য খাত চূড়ান্ত ধসের মুখে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জ্বালানি সরবরাহ স্থগিতের নোটিশের পর রবিবার থেকে গাজার ঐতিহ্যবাহী কুয়েত হাসপাতাল তাদের বেশিরভাগ পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর ফলে হাসপাতালটিতে এখন থেকে শুধুমাত্র সংকটাপন্ন ও জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না থাকায় হাসপাতালের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগসমূহ, যেমন-জরুরি অস্ত্রোপচার, প্রসূতি সেবা, বহির্বিভাগ ক্লিনিক, স্ক্যানিং, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে রোগী পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জীবনরক্ষাকারী এই সেবাগুলো বন্ধ থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ ফিলিস্তিনি চিকিৎসাসেবা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য জরুরি বিভাগ সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক উদ্বেগজনক বার্তায় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তেল ও খুচরা যন্ত্রাংশের তীব্র অভাবে ইতিমধ্যে অঞ্চলের একাধিক হাসপাতালের জেনারেটর সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে। আর যেসব জেনারেটর এখনও চালু আছে, সেগুলো দিনরাত ২৪ ঘণ্টা একটানা চলার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বিকল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) জীবনরক্ষাকারী বিভাগগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে খান ইউনিসের বিখ্যাত নাসের হাসপাতালের মূল জেনারেটরটি অকেজো হয়ে পড়ে এবং পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে কোনো মতে কাজ চালানো হচ্ছিল। গাজার কুয়েত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি অবিলম্বে এই জ্বালানি সংকট নিরসনে পদক্ষেপ না নেয়, তবে চিকিৎসা না পেয়ে অগণিত ফিলিস্তিনি মানুষের অকালমৃত্যু ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *