খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হলের সংলগ্ন একটি আবাসিক মেসে চুরির অপবাদে আজমল হোসেন (২২) নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে চাঁদা দাবি ও নির্যাতনের পর ওই শিক্ষার্থীকে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নিহত আজমল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুবির খানজাহান আলী হল গেটের বিপরীতে একটি পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় মেসে থাকতেন আজমল। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে সেখানে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরির অপবাদ দিয়ে আজমলকে মেসে কয়েকজন মিলে অমানুষিক নির্যাতন করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের মাথার একপাশের চুল কাটা, শরীরে বেদম প্রহারের দাগ এবং দুটি পা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রহারের একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
নিহত আজমলের বাবা কুতুব উদ্দিন চুয়াডাঙ্গা থেকে ছুটে এসে ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে অচেনা কয়েকজন যুবক ফোন করে জানায় যে তার ছেলে চুরি করেছে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে। তিনি দ্রুত খুলনায় পৌঁছানোর আশ্বাস দিলেও সকালে মেসে এসে কেবল ছেলের হত্যাকাণ্ডের খবর পান। সন্তানহারা এই বাবা আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি আর কোর্ট-কাচারির ঝামেলায় যেতে চাই না, বিচার ওপরওয়ালার কাছে ছেড়ে দিয়ে লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।”
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরির অভিযোগে মারধর ও ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পরিবার মামলা করতে না চাইলেও বিষয়টির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পুলিশ অধিকতর তদন্ত জোরদার করেছে।
অন্যদিকে খুবির ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন জানান, ঘটনাটি ক্যাম্পাসের সীমানার বাইরে ঘটলেও তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

