প্রধান খবর

‘এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এরকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি-দিতাম’

বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের কাছ থেকে আইফোনটি নিয়ে বের হয়েছিল কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম। কিন্তু মাত্র একটি মোবাইল ফোনের লোভেই যে তার জীবনে এমন নির্মম পরিণতি নেমে আসবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি তার পরিবার। সন্তান হারানোর এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শিক্ষক সমাজসহ পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) এলাকায় শোক ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরেনি অপ্রতীম। পরবর্তীতে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র শোকের ছায়া নেমে আসে। লাশ উদ্ধারের প্রাথমিক পরায়ে জানা গেছে, কিশোর অপ্রতীমের মাথায় গুরূতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই ঘাতকরা তাকে মাথায় নৃশংসভাবে আঘাত করে হত্যা করে লাশ জঙ্গলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, “আমাদের সহকর্মী ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তানের এমন করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কুবি পরিবার আজ শোকাহত ও স্তব্ধ। আমরা অবিলম্বে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেমে এসেছে শোকের মাতম। কুবির শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি! এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি-আমরা দিতাম। হে আল্লাহ, শোকাহত বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার শক্তি দাও।”

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দ্রুতই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *