ব্যবসায়ী ও সাংবাদিককে ফাঁসাতে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করে উল্টো নিজেই থানা-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন বিউটি খাতুন (৪৫) নামের এক নারী। বিউটি খাতুন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারইহুদা গ্রামের বাবর আলীর মেয়ে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দীর্ঘ তদন্তে মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঝিনাইদহের পাগলাকানাই ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বিশ্বাসের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন এই নারী। চরমুরারিদহ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিউটির বিরুদ্ধে জমি দখল, মাদক ব্যবসা, মিথ্যা মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তিনি যে জমিটিতে বাড়ি নির্মাণ করে থাকেন, সেটিও সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়তায় দখল করা বলে জানান স্থানীয়রা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চরমুরারিদহ গ্রামের একটি জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের সঙ্গে বিউটি খাতুনের দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলছিল। সেই জমির দখল বজায় রাখতে ও সাংবাদিক রাজকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান সাঈদ বিশ্বাসের নির্দেশে তিনি একটি মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার পিবিআই গ্রহণ করার পর দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তারা নিশ্চিত হয় যে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই কাল্পনিক মামলা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অপরাধে বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ (১) ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ সেই পরোয়ানাবলে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

