ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের ভয়াবহ সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজ বা নিহতের তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা সবাই একই প্রাইভেটকারের যাত্রী ও চালক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন- মজিবুর রহমান (৫৫), মোছা. শামীমা আক্তার (৪৫), সাবিহা চৌধুরী (৪৩) এবং প্রাইভেটকার চালক সোহেল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একটি মায়ামি রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে প্রাইভেটকারটি ঢাকার দিকে ফিরছিল। বিকেল সাড়ে ২টার দিকে জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়িটি ইউটার্ন নেওয়ার চেষ্টা করলে বিপরীতমুখী ‘নিউ বলেশ্বর’ পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের প্রবল ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপর উল্টে পড়ে। ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে প্রাইভেটকার চালক সোহেল প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকার থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক ব্যতীত আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া অপর এক যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

