সরকারঘোষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর সরকারি ও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় বিশাল ব্যবধান নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি সরকারি স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। তবে এই বর্ধিত সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের। তারা পূর্বের ন্যায় মাত্র ৫০০ টাকা হারের চিকিৎসা ভাতাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছেন।
প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছর ১ দিন থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে অবসরভোগীদের বয়সভেদে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে পে-স্কেল ও ভাতা পুনর্বিন্যাস হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মৌলিক চিকিৎসা ভাতা বাড়ানো হয়নি। শতকরার হিসেবে বাড়ি ভাড়া ও ভাতা বৃদ্ধির বিভিন্ন আন্দোলনেও বারবার চিকিৎসা ভাতা ন্যূনতম এক হাজার টাকা করার দাবি উঠলেও তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।
একই যোগ্যতা ও সমান পরিশ্রম সত্ত্বেও এমন নীতিগত ব্যবধানকে চরম বৈষম্য হিসেবে দেখছেন শিক্ষক নেতারা। এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষক নেতা মো. রাশেদ মোশাররফ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান বাজারে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ফি-ই যেখানে ১ হাজার টাকার বেশি, সেখানে একজন শিক্ষকের চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা রাখা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেখানে প্রিলি ও ভাইভার মাধ্যমে নিয়োগ হয়, সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রিলি, লিখিত ও ভাইভা-এই তিন ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখে নিয়োগ পান। মেধা বা যোগ্যতায় পিছিয়ে না থেকেও কেন তাদের এমন অবহেলার শিকার হতে হবে?” এই অস্বাভাবিক আর্থিক ব্যবধান দূর করে অবিলম্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা পুনর্নির্ধারণের জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

