কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় এশার আজান দেওয়ার সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন এক ইমাম। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার (১১ জুলাই) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। প্রয়াত ওই ধর্মীয় শিক্ষকের নাম মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮)।
নিহত আমিনুল ইসলাম গোপীনাথপুর গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকার মৃত শামসুল আলমের ছেলে। তিনি গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ইমামতির পাশাপাশি তিনি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার হাত ধরে ওই অঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষার্থী দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।
মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসল্লিদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও আমিনুল ইসলাম এশার নামাজের আজান দিচ্ছিলেন। আজান চলাকালেই আকস্মিকভাবে তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং মসজিদের মেঝেতে পড়ে যান। উপস্থিত মুসল্লিরা কোনো বিলম্ব না করে তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের স্ত্রীর ভাই ও বুড়িচং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার (১২ জুলাই) বাদ জোহর গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, মাওলানা আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ একজন আলেম। ইমামতি, কোরআনের শিক্ষা এবং নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে তিনি এলাকায় এক বিশেষ সম্মান ও সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। আজানরত অবস্থায় তার এই আকস্মিক বিদায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।

