প্রধান খবর

এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে কুতুবদিয়া: অসাধু চক্রের বাঁধায় লাখো মানুষের চরম দুর্ভোগ

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে একের পর এক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে দ্বীপের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে এই তীব্র জলাবদ্ধতার পেছনে কেবল অতিবৃষ্টিই নয়, বরং পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্ট দখল করে কিছু অসাধু চক্রের মাছ শিকারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ অবরুদ্ধ করায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন প্লাবিত। এর মধ্যে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, আনিছর ডেইল ও জেলেপাড়া; বড়ঘোপ ইউনিয়নের বদাইয়ারপাড়া, মনোহরখালী, মিয়ারঘোনা, আজম কলোনি, কালাইয়াপাড়া ও দক্ষিণ অমজাখালী এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর, কিল্লারপাড়া ও নজর আলী মাতবরপাড়া পানিতে ভাসছে। এছাড়া লেমশীখালী ইউনিয়নের মতির বাপেরপাড়া, চিন্নি খাইয়েপাড়া, শাহজীরপাড়া, গাইনে কাটা, নয়াঘোনা ও ধুপিপাড়া; দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের কিল্লারপাড়া ও বাতিঘর এবং উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদারপাড়া, চাটিপাড়া, জইজ্যারপাড়া, ছাদেরঘোনা, জুম্মাপাড়া ও বাকখালীসহ উপজেলার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল এখন সম্পূর্ণ জলমগ্ন।

সবচেয়ে ভয়াবহ ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে। সেখানে বর্তমানে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ। এর পাশাপাশি উপজেলার প্রধান ও সংযোগ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বড়ঘোপ ইউনিয়নের বাসিন্দা রেজাউল হাসান, ফরিদ আহমেদ ও শফিকসহ একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টানা বৃষ্টির পরও দীর্ঘ সময় ধরে পানি না নামায় স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সরকারি খালাসি বা গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্রের জাল পেতে মাছ ধরার লোভের কারণেই এই কৃত্রিম বন্যা পরিস্থিতি। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে লাখো মানুষকে জিম্মি করে পানি চলাচলের মুখে বাধা সৃষ্টি করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন দ্বীপবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *