প্রধান খবর

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে তারেক রহমানের বাণী: তরুণদের সম্ভাবনাই জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে তারেক রহমানের বাণীতে তরুণদের সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার

শনিবার (১১ জুলাই) দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনমিতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদার এবং নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় তরুণদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রস্তুতিতে সুন্দর আগামী গড়ি’ জাতীয় উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এ চেতনা বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন একটি প্রজন্মের ওপর, যারা হবে শিক্ষিত, দক্ষ, প্রযুক্তিবান্ধব, সুস্থ, মানবিক ও উদ্ভাবনী। তরুণদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং নিজেদের ইচ্ছা, সক্ষমতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুখী পরিবার গড়ে তুলতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে আজকের তরুণরাই সবচেয়ে বড় শক্তি। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যেখানে প্রতিটি তরুণ-তরুণী যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখবে এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত হলে তরুণরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে এবং দায়িত্বশীল পরিবার গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও সচেতনভাবে নিতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একটি উন্নত জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো সুস্থ জনগোষ্ঠী। এ লক্ষ্য অর্জনে সবার জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব এবং অপুষ্টি এখনও দেশের তরুণ প্রজন্মের বিকাশ ও অগ্রযাত্রার বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, পুষ্টি উন্নয়ন এবং জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও সেবা জোরদারে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিটি তরুণ-তরুণী যদি সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ পায়, তবে তারাই আগামী দিনের সম্ভাবনাময়, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *