সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু সংক্রমণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলেও আক্রান্ত রোগীদের সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে অবগত নন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে মোট ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন এবং অন্যান্য রোগী হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিভিল সার্জন দাবি করেন, জেলার হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো চিকিৎসা সেবার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর কোনো সংকট নেই। তবে হাসপাতালে বর্তমানে কতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমে জানান, কোনো রোগী ভর্তি নেই। পরে প্রকৃত তথ্য জানানো হলে তিনি বলেন, সিলেটের বাইরে থাকায় সর্বশেষ তথ্য তার জানা ছিল না। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা তুলনামূলক কম হয়েছে বলেও স্বীকার করেন।
এদিকে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক প্রতিনিধিরা বলছেন, ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্য সংকটের সময়ে আক্রান্ত রোগীর হালনাগাদ তথ্য জানা এবং পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাদের মতে, তথ্য সমন্বয়ে ঘাটতি থাকলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস অভিযান, নালা-ড্রেন পরিষ্কার, বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিতরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পরিষ্কার পানি জমতে না দেওয়া এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

