ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ দেশটির রাজধানী তেহরান থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পবিত্র শহর কুমে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই শহরে তার মরদেহ নিয়ে এক বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আজ সকালে একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে মরহুম নেতার মরদেহ কুমে নিয়ে আসা হয়। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর দেশটিতে যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তারই ধারাবাহিকতায় কুমেও ব্যাপক নিরাপত্তা ও শোকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাজধানী তেহরানের রাস্তায় টানা তৃতীয় দিনের মতো খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের। শোকপ্রকাশ করতে আসা লাখো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দেশটির সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজা ও ঐতিহাসিক শোকযাত্রার পর দেশটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় জনসমাগম।
একটি বিশেষভাবে সজ্জিত ট্রাকে করে সর্বোচ্চ নেতার কফিন বহন করা হয়। একই সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের আরও চার সদস্যের মরদেহও রাখা হয়েছিল। শোকমিছিলটি ধীরগতিতে তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহাসিক আজাদি স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হয়।
রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লাখো কালো পোশাক পরিহিত মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কফিনগুলোর ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাদের প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক নাতনিও রয়েছে, যার কফিনটি দেখে উপস্থিত জনতার মধ্যে তীব্র আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন কুমে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি চলছে।

