ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছে। অবিরাম বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মুম্বাই, পুনে, ঠানে ও আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুনেতে একটি পাহাড়ের অংশ ধসে বেশ কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়ে অন্তত ৩০ জন আটকা পড়েছেন। মহারাষ্ট্র দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা সোমবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। ধসের কারণে মুম্বাই–পুনে সড়ক সোমবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে রাজধানীর সঙ্গে পুনের যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ট্রেন পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে, বাতিল হয়েছে অন্তত ১৬টি ট্রেন।
মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকায় রোববার রাতে একটি বাড়ি ভেঙে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু। মহারাষ্ট্রে দুর্যোগজনিত দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ঠানেতে কামবরী নদীতে ডুবে মারা গেছে ১৭ বছরের এক কিশোর। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এখনই থামছে না বৃষ্টি। মুম্বাই, রায়গড়, ঠানে ও পালঘরে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে, সঙ্গে থাকবে ঝোড়ো হাওয়া। সবচেয়ে বেশি দুর্যোগে পড়েছে মুম্বাই ও পুনে। ইতোমধ্যে দুই শহরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মুম্বাইয়ে সোমবার স্কুল, কলেজ ও সরকারি দপ্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুনের মাভাল উপজেলার লোহাগড় দুর্গের কাছে গভীর রাতে পাহাড় ধসে পড়ায় কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়ে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি দল সকাল থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে। ধসে চাপা পড়া বাড়ি থেকে নন্দু তিকোনে (৬০), মৌলি তিকোনে (৩০) ও অনিতা তিকোনে (৫৫)—এই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুনের সদাশিব পেঠে একটি তিনতলা বাড়ি খালি করা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে।
মহারাষ্ট্রজুড়ে টানা বর্ষণ ও পাহাড় ধসের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, এবং উদ্ধারকাজ চলছে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে।

