অস্ট্রেলিয়ার বহুমাত্রিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গৌরবময় অবস্থান তৈরি করতে যে কয়েকজন ব্যক্তিত্ব অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের পুনর্নির্বাচিত কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। নিজের মেধা, দূরদর্শিতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি কেবল সিডনির স্থানীয় বাসিন্দাদের সেবাই করছেন না, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হয়ে উঠেছেন এক অনন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক।
মাসুদ চৌধুরীর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মপন্থার প্রধান শক্তি হলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগ। স্থানীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উদযাপন কিংবা তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশমূলক কর্মসূচি-সবখানেই রয়েছে তাঁর সরব ও ইতিবাচক ভূমিকা। শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটিই নয়; নেপালি, ভারতীয়, আরব ও আফ্রিকানসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করে তিনি বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তাঁর একক ও বলিষ্ঠ উদ্যোগে প্রতি বছর ক্যাম্বেলটাউন স্টেডিয়ামে আয়োজিত হয় উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব ‘বৈশাখী’। বার্ষিক এই উৎসবে দশ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে, যা প্রবাসে অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া, ক্যাম্বেলটাউন একুশে বইমেলার পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছেন তিনি।
সামাজিক দায়বদ্ধতার বাইরেও মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে মাসুদ চৌধুরী সমানভাবে সমাদৃত। ২০২০ সালের প্রলয়ঙ্করী দাবানলের সময় রুরাল ফায়ার সার্ভিসের (RFS) জন্য তহবিল সংগ্রহে তিনি নেতৃত্ব দেন। ক্যানসার কাউন্সিল এবং ভিক্টোরিয়া দাবানল দুর্গতদের সহায়তায়ও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দ্য গ্রেঞ্জ পাবলিক স্কুলের সাবেক সভাপতি, হোয়াইট রিবনের রাষ্ট্রদূত এবং গত ২৫ বছর ধরে ‘জাস্টিস অব দ্য পিস’ হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে আসছেন। ২০১৬, ২০২১ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ২০২৮ মেয়াদের জন্য তিনি কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সিডনি ম্যাকার্থার ভলান্টিয়ার অব দ্য ইয়ার’, ‘সিটিজেন অব দ্য ইয়ার’ এবং মর্যাদাপূর্ণ ‘অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। মাসুদ চৌধুরীর লক্ষ্য কেবল একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়া নয়, বরং এমন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ করা, যেখানে বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির প্রতিটি মানুষ সমান মর্যাদা ও ন্যায্য অংশীদারিত্ব পাবে। তাঁর এই বর্ণিল পথচলা নিশ্চিতভাবেই আগামী প্রজন্মকে মূলধারার নেতৃত্বে আসতে এবং সমাজের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

