প্রধান খবর

শিক্ষামন্ত্রীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেল নাটোর-বগুড়ার ১৫ শিক্ষার্থী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সময়োচিত ও জোরালো হস্তক্ষেপে অবশেষে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন নাটোর ও বগুড়ার ১৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নাটোরের ৮ জন এবং বগুড়ার ৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। ফরম পূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নাটোরের লালপুর থেকে কলেজের এক অফিস সহকারীকে ইতোমধ্যে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী যথানিয়মে ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও প্রবেশপত্র পাননি। কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে তা বোর্ডের তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ফলে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তা শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বিশেষ বিবেচনায় ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর এই জরুরি নির্দেশনার পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিশেষ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র ইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ফলে আগামীকাল শনিবার থেকেই তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

পাশাপাশি, টাকা আত্মসাতের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক এবং লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশনার পর পুলিশ তৎপর হয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে নেমেছে। আব্দুলপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তে যাদেরই গাফিলতি বা অপরাধ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুলের কারণে ১ জন এবং মহাস্থানগড়ে ফরম পূরণ সংক্রান্ত জটিলতায় আরও ৬ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এই ৭ শিক্ষার্থীর বিষয়টিও মন্ত্রীর কাছে পৌঁছালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলশ্রুতিতে, বগুড়ার এই ৭ পরীক্ষার্থীরও জটিলতা নিরসন করে ফরম পূরণ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তারাও আগামীকাল থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *