ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, লেবাননের কোনো ভূখণ্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইসরায়েলের নেই। তবে দেশটির প্রতিরোধযোদ্ধা হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা এক মিলিমিটারও সরবে না। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান লেবানন সফর করেন এবং সেই দিনই কাটজ এই মন্তব্য করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী লেবানন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করবে এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ভেঙে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। এর ফলে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ উন্মুক্ত হবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে বিতাড়িত করতে সেনাবাহিনীকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে আবারও হামলা চালিয়েছে। ওই এলাকায় সেনাদের ওপর হামলার জবাবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার একটি বিস্ফোরণে আইডিএফের এক সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।
কাটজ বলেন, পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্ধারিত স্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এর বাইরে অন্য কোনো এলাকা থেকে সেনা সরানোর সম্ভাবনা নেই। এই কর্মসূচির আওতায় লেবাননের সেনাবাহিনী দায়িত্বভার গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, লেবাননে কোন কোন এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই, কারণ হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল সরে যাবে না।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রও গ্রহণ করেছে এবং এটি ইসরায়েল–লেবানন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ না থাকলে আইডিএফ লেবাননে হিজবুল্লাহকে পতন ঘটাতে পারত। আইডিএফ ব্যাপক বিমান হামলার পরিকল্পনা করেছিল, যা হিজবুল্লাহকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারত। তবে গোষ্ঠীটি নিজেদের রক্ষায় ইরানের কাছে সাহায্য চাইছিল।

