প্রধান খবর

৩ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে দেখলেন ৭৫৯ কোটি! পশ্চিমবঙ্গে অবিশ্বাস্য কাণ্ড

ব্যাংক থেকে সামান্য কিছু টাকা তুলতে গিয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন দুই সাধারণ গৃহবধূ। একজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে প্রায় ৭৬০ কোটি টাকা, আর অন্যজনের অ্যাকাউন্টে ৭৪০ কোটি টাকা! ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও আলিপুরদুয়ার জেলায় একই দিনে ঘটা এই দুই ঘটনায় পুরো রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার অন্তর্গত বিলবোড়াকোপরা গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিকাপুর গ্রামে। সেখানকার বাসিন্দা দরিদ্র গৃহবধূ সেরিফা খাতুনের স্বামী ও আত্মীয়রা তামিলনাড়ুতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সেখান থেকে সেরিফার দেওর তার ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’র অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পাঠান। ওই টাকা তুলতে স্থানীয় ব্যাংকে গেলে সেরিফা জানতে পারেন, তার অ্যাকাউন্টে ৭,৫৯৬,৯৫১,৯৫১.১৬ রুপি (প্রায় ৭৫৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা) জমা রয়েছে।

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের এই গৃহবধূ হঠাৎ অ্যাকাউন্টে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভয়ে তার হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লালগোলা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। কীভাবে একজন দিনমজুরের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে কয়েকশো কোটি টাকা এলো, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

ঠিক একই দিনে কাছাকাছি ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের উত্তর ধুলাগাঁও গ্রামে। সেখানকার বাসিন্দা স্বপ্না বর্মন নামের এক নারী সরকারি প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা জমা হয়েছে কি-না, তা জানতে স্থানীয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে যান। সেখানে অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট পরীক্ষা করতেই দেখা যায়, তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ গৃহবধূকে নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যাংকে গিয়ে ব্যালেন্স যাচাই করার পরামর্শ দেয়। তবে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। দেখা যায়, অ্যাকাউন্টে কোনো কোটি টাকা নেই, আগের মতোই পড়ে রয়েছে মাত্র ২০২ টাকা।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের ধারণা, ব্যাংকের কোনো বড় ধরনের কারিগরি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির (সার্ভার ক্র্যাশ) কারণে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ভুল ব্যালেন্স প্রদর্শিত হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে এমন কোটি কোটি টাকার বিভ্রান্তি কীভাবে তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *