জাপানে এক নির্মম ও শিউরে ওঠার মতো অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। নিজ রুমমেটের ঠোঁট সুঁই-সুতা দিয়ে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে মাসায়ে সাকুরাই নামে ৪৯ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। এই অমানবিক ও নৃশংস ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত ২৯ জুন এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ৪২ বছর বয়সী ওই নারী সাকুরাইয়ের সাথে একই বাড়িতে থাকতেন। ঘটনার দিন কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাকুরাই তার ওপর চড়াও হন এবং সুঁই-সুতা দিয়ে তার ঠোঁট দুটি শক্ত করে সেলাই করে দেন। তীব্র যন্ত্রণা এবং আতঙ্কে ভুক্তভোগী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।
এই পাশবিক নির্যাতনের পর ভুক্তভোগী নারী তাৎক্ষণিকভাবে পালানোর সাহস পাননি। সাকুরাইয়ের কঠোর নজরদারি ও প্রাণনাশের ভয়ে তিনি ওই রাতে বন্দি অবস্থায় কাটাতে বাধ্য হন। পরের দিন সকালে সাকুরাই কোনো প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বাইরে বের হলে, সেই সুযোগে ভুক্তভোগী নারী কোনোমতে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঠোঁট সেলাই করা থাকায় ওই নারী কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। নিজের বীভৎস অবস্থা লুকাতে এবং রক্তপাত ঢাকতে তিনি মুখে একটি সাদা রঙের মাস্ক পরেন। এরপর তিনি দ্রুত কাছের একটি সুপারশপে গিয়ে উপস্থিত হন। কথা বলতে না পারায় তিনি একটি কাগজের টুকরোয় ইংরেজিতে ‘Please help me’ (দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন) লিখে দোকান কর্মচারীদের দেখান। কাগজের বার্তা এবং নারীর শারীরিক অবস্থা দেখে দোকান কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মাসায়ে সাকুরাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে বা কী ধরনের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই চরম নৃশংস ও অস্বাভাবিক ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে পুলিশ ইতিমধ্যেই নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে।

