প্রধান খবর

এআই কি মানুষের পক্ষপাতই শিখছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে এমন আলোচনা এখন প্রতিদিনই শোনা যায়। ইলন মাস্কসহ প্রযুক্তি দুনিয়ার অনেকেই দাবি করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে এআই ইতোমধ্যেই মানুষকে ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু জাতিসংঘের নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও গভীর উদ্বেগ এআই হয়তো মানবজাতির কুৎসিত পক্ষপাতও উত্তরাধিকারসূত্রে পাচ্ছে।

জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন জানিয়েছে, গবেষকরা যখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোকে লিঙ্গ দিয়ে শুরু হওয়া বাক্য সম্পন্ন করতে বলেন, তখন প্রতি পাঁচটি উত্তরের মধ্যে প্রায় একটি উত্তরই লিঙ্গবৈষম্যমূলক বা নারীবিদ্বেষী ছিল। কিছু ক্ষেত্রে এআই নারীদেরকে বস্তু, সম্পত্তি বা পুরুষের অধীনস্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।

জাতিসংঘ বলছে, ই-মেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি, কনটেন্ট জেনারেশন এবং প্রশ্নোত্তর এই সবকিছুতেই এআই ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে। ফলে এআই–এর ভেতরে থাকা পক্ষপাতমূলক অ্যালগরিদমগুলো সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠা করছে। এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়; বরং এআই ইন্টারনেট থেকে শেখে যেখানে বহু দশকের গৎবাঁধা ধারণা, কুসংস্কার এবং বৈষম্য জমা হয়ে আছে।

সংস্থাটির ডিজিটাল প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান জয়তমা বিক্রমনায়েকে বলেন, এআই মডেলগুলো মানুষের লেখা বহু দশকের টেক্সট থেকে শিখছে যে সময় নারীদের স্থান ছিল ঘর ও পরিবারে, আর পুরুষদের স্থান ছিল ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে। ফলে এআই সেই পুরোনো সামাজিক বাস্তবতাকেই পুনরায় প্রতিফলিত করছে।

এই প্রতিবেদন প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে? এআই কি সত্যিই ভবিষ্যতের সমাধান, নাকি অতীতের পক্ষপাতের পুনরাবৃত্তি?

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *