ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে। নির্বাচনের পর প্রথম লেনদেন দিবসে ৯১ শতাংশের বেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় পৌনে ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৬০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। একই প্রবণতা দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও।
শুধু সূচক নয়, লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় মোট লেনদেন ৪৮৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ হাজার ২৭৫ কোটিতে পৌঁছায়। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের পূর্ববর্তী চারটি নির্বাচনের পর এমন বিস্তৃত উত্থান দেখা যায়নি। বিশেষ করে ব্যাংক ও ওষুধ খাত সূচক বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।
সকালের লেনদেন শুরুতেই ‘প্রি-মার্কেট’ পর্যায়ে তিন শতাধিক কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে। মাত্র চার মিনিটের মধ্যে সূচক ১৭০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পায়। একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংক ছাড়া বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৩৫৫ কোম্পানির মধ্যে ৮৫টির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়; শেষ পর্যন্ত ৬০টি কোম্পানি সেই অবস্থানে স্থির ছিল। কমপক্ষে ৫ শতাংশ দর বেড়েছে ১৩৭ কোম্পানির।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের গড় দর বৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ, ব্যাংক খাতে সাড়ে ৩ শতাংশ এবং বীমা খাতে সোয়া ৩ শতাংশ। সিরামিক ও ভ্রমণ-অবকাশ খাতেও গড়ে ৫ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি লক্ষ করা যায়। লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংকের শেয়ার, যেখানে প্রায় ৮১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এর সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীর মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকাংশে দূর হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে নতুন সরকার অর্থনীতিতে কতটা গতি আনতে পারে, তার ওপরই বাজারের দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ নির্ভর করবে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ও নিম্নমূল্যে বিনিয়োগের সুযোগ এই দুই উপাদানই নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক সাড়া তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

