প্রধান খবর

গার্মেন্টস শ্রমিক ছাঁটাই বাংলাদেশ: অর্ডার সংকটে বন্ধ কারখানা ও চাকরি হারানোর আতঙ্ক

বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই ও চাকরি হারানোর কারণে উদ্বিগ্ন শ্রমিকদের প্রতীকী দৃশ্য

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে অর্ডার কমে যাওয়া, জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ চাপের মধ্যে রয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে দেশের অন্যতম বড় রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্পে।শিল্প মালিকদের দাবি, অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় নিয়মিত লোকসান হচ্ছে। সেই ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে বাধ্য হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে, ফলে শ্রমিক ছাঁটাই আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে।

সংকটে গার্মেন্টস শ্রমিক ছাঁটাই বাড়ছে বিভিন্ন জেলায়

নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও চট্টগ্রাম—সব বড় শিল্পাঞ্চলেই উৎপাদন হ্রাসের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কোথাও কারখানা বন্ধ হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিক সংখ্যা কমিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জে প্রায় দুই হাজারের বেশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

সাভার এলাকায়ও কয়েকটি কারখানায় বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আল-মুসলিম গ্রুপের অধীনে থাকা একাধিক কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর পাওয়া গেছে বলে শ্রমিকরা জানান।

গাজীপুরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারখানায় অর্ডার সংকট ও শ্রমিক সংখ্যার ভারসাম্য না থাকায় ১৯টি কারখানায় প্রায় ৫৬০ শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে বলে শিল্প পুলিশের সূত্রে জানা গেছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ ও উদ্বেগ

চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের অনেকেই অভিযোগ করছেন, হঠাৎ করেই তাদের চাকরি হারাতে হয়েছে। পূর্ব নোটিশ বা পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়াই ছাঁটাইয়ের কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।শ্রমিকদের মতে, কাজ না থাকায় কারখানা থেকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে তাদের আর প্রয়োজন নেই। এতে পরিবার নিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছেন তারা।

মালিকপক্ষের অবস্থান

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করে না। মূলত বাজারে অর্ডার কমে যাওয়া ও ব্যবসায়িক চাপের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হচ্ছে কর্মী সংখ্যা কমাতে।

তবে সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যেকোনো ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন ও সুবিধা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

শিল্প পুলিশের নজরদারি

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, যেসব এলাকায় ছাঁটাই হচ্ছে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোথাও যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে জন্য মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *