বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী মাহামুদুল হাসানকে নিয়ে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তার শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাহামুদুল হাসানের পরিচয় ও যোগ্যতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে ডিবিসি নিউজের বাগেরহাট প্রতিনিধি সৈকত মণ্ডল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে পিবিআইয়ের তদন্তাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, চলমান তদন্তের মধ্যে মাহামুদুল হাসান চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি পাল্টা মামলা করেন। সাংবাদিকদের দাবি, ওই মামলায় সংবাদ সংগ্রহে অংশ না নেওয়া ব্যক্তি এবং কয়েকজন সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে সাংবাদিকদের হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে।
সৈকত মণ্ডল বলেন, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাব না দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পাল্টা মামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

