ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে সোমবার সকালে এক ভয়াবহ ও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার এই প্রবল ভূকম্পনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই বিপর্যয়ে আহত হয়েছেন আরও ১৩৪ জন এবং প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে (জিএমটি রোববার রাত ১১টা ৩৭ মিনিট) মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় এই শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের তীব্রতায় ওই অঞ্চলের বহু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩১ জন সোকসারগেন (SOCCSKSARGEN) অঞ্চলের এবং চারজন দাভাও এলাকার বাসিন্দা। ধসে পড়া ঘরবাড়ির নিচে এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল।
ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১.৩ থেকে ৬.৭ মাত্রার অন্তত ১৩০টিরও বেশি আফটারশক (অনুকম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে। পরবর্তীতে সারাঙ্গানির বালুত দ্বীপ উপকূলেও ৫.৭ মাত্রার আরেকটি পৃথক ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। দুর্গত এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইন ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত অস্থিতিশীল ‘রিং অব ফায়ার’ (Ring of Fire) অঞ্চলে অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়ার কারণে প্রায়শই ছোট-বড় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। যদিও দেশটিতে নিয়মিত মৃদু ভূকম্পন সাধারণ বিষয়, তবে এবারের এই ৭.৮ মাত্রার মতো বড় ধরনের ভূমিকম্প অতীতেও ফিলিপাইনে ব্যাপক প্রাণহানি ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

