পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টাকে ঘিরে চলমান জটিলতার অবসান হয়েছে। প্রায় ৭০ ঘণ্টা শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থানের পর রোববার গভীর রাতে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ঘটনাটি নিয়ে সীমান্তজুড়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা রাতের মধ্যেই প্রশমিত হয়।
সোমবার সকালে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে যেখানে ওই ১০ জন অবস্থান করছিলেন, সেখানে আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। আগের মতো বিজিবি ও বিএসএফের অতিরিক্ত সদস্যদের উপস্থিতিও নেই। উভয় বাহিনী নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে গিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোর থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে তারা দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটান। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাদের জন্য কোনো আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী জানান, তারা বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিচ্ছিলেন। তার ভাষায়, “রাত ১২টার দিকে বিএসএফ তাদের লাইট বন্ধ করে দেয়। পরে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে তারা ওই লোকজনকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।” স্থানীয়দের মতে, বিএসএফের এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই কয়েক দিন ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান ঘটে।

