রীনা দত্ত এবং কিরণ রাওয়ের সঙ্গে দাম্পত্যজীবনের ইতি টানার পর আমির খানের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয় গৌরী স্প্র্যাটকে নিয়ে। গত বছর নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সামনে গৌরীকে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। জানান, গৌরী তার প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গেই কাজ করছেন এবং ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়েছে।
আমির ও গৌরীর সম্পর্কের শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ গোপন। প্রায় দেড় বছর ধরে তারা সংবাদমাধ্যমের নজর এড়িয়ে সম্পর্কটিকে আড়ালে রেখেছিলেন। এক প্রেস মিটে রসিকতা করে আমির বলেন, তিনি কাউকে বিন্দুমাত্র টের পেতে দেননি। গৌরী তখন বেঙ্গালুরুতে থাকতেন, আর আমির প্রায়ই সেখানে উড়ে যেতেন। বেঙ্গালুরুতে মিডিয়ার নজরদারি তুলনামূলক কম থাকায় দীর্ঘ ১৮ মাস তারা নিজেদের সম্পর্ককে আলোচনার বাইরে রাখতে সক্ষম হন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির জানান, গৌরীর আগমনে তিনি জীবনে এক পরম শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। রীনা ও কিরণের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলেও তা স্থায়ী হয়নি এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গৌরীর সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি নিজেকে আবারও পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে অনুভব করছেন। গত এক বছরে এই জুটিকে ম্যাকাও ইন্টারন্যাশনাল কমেডি ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেছে।
গৌরী স্প্র্যাট বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। তার মা রীতা স্প্র্যাট ছিলেন শহরের একটি নামী সেলুনের মালিক। ব্লু মাউন্টেন স্কুলে পড়াশোনা শেষে গৌরী ২০০৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস লন্ডন থেকে ফ্যাশন ও ফটোগ্রাফিতে বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ে একটি পরিচিত সেলুন পরিচালনা করছেন এবং সাত বছর বয়সী এক সন্তানের জননী।
অন্যদিকে, এটি হতে যাচ্ছে আমিরের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে শৈশবের বান্ধবী রীনা দত্তকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তাদের সংসারে জন্ম নেয় জুনায়েদ ও ইরা। ১৬ বছরের দাম্পত্যজীবনের পর ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদ হলেও সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান আজাদের সহ-অভিভাবক হিসেবে তারা এখনো যুক্ত রয়েছেন।

