অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এলাকার প্রকৃত অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না। সরকার তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক মাসে বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে, যার অংশ হিসেবে ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টিও দ্রুত সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সলিমপুর নয়, সারা দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ যদি সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের ভয় দেখায় বা চাঁদা দাবি করে, তবে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।
পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নিতে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। এরপর ৯ মার্চ যৌথ বাহিনী পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আলীনগরে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে।
সর্বশেষ ২৪ মে গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র অপরাধী ভারী বুলডোজার নিয়ে সেই ক্যাম্পে হামলা চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টার গুলিবিনিময়ের পর তারা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

