ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর সাবেক কমান্ডার হুসেইন কানানি দাবি করেছেন যে সৌদি আরব ইতোমধ্যেই পরমাণু অস্ত্রের মালিক এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত। তাঁর মতে, ইসরায়েলও এই তথ্য জানে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা-রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। ২০২৪ সালে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায় এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে উত্তেজনার মাত্রা আবারও বাড়ে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের হুমকি দেয়, যদিও জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হলে সেই হুমকি বাস্তবায়িত হয়নি।
এ সময়েই যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ পাঁচটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী মোতায়েন করে। ইরানের জন্য এটি স্পষ্ট সামরিক চাপের ইঙ্গিত। গত জুনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের মধ্যেই ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছিল এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রও তাতে যোগ দেয় এ অভিজ্ঞতা তেহরানের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের আগমনের পরদিনই ইরান হরমুজ প্রণালী এলাকায় সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয় এবং আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ৯ ফেব্রুয়ারি আইআরজিসি ঘোষণা করে যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন করে।
তবে কানানির মতে, যুদ্ধ শুরু হলে ইরান প্রথম পর্যায়ে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা নাও চালাতে পারে। তাঁর ভাষায়, তেহরান বরং সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলকে “মুরগির খেলা” বলে অভিহিত করে দাবি করেন যে এই খেলায় ইরান “দশ ধাপ এগিয়ে” আছে।

