যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি-এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর জেডি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান যেন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করে এবং বিদ্যমান মজুত সরিয়ে ফেলে, কারণ এ ধরনের ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য।
গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, একটি সমঝোতা “খুব কাছাকাছি”। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে। উপসাগরীয় মিত্ররা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান নেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল পুনরায় নিশ্চিত করা হতে পারে। এ জন্য ইরানকে জলপথ থেকে মাইন অপসারণে ৩০ দিন সময় দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে, যাতে দেশটি আবার তেল রপ্তানি শুরু করতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টই নেবেন।”
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এসব দাবি অস্বীকার করেছে তাদের ভাষ্য, কোনো মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়নি এবং সব আকাশযান নিরাপদে রয়েছে।

