রংপুর মহানগরীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বদিয়ার জামান (৪৫) নামের এক বহিরাগত শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে নগরীর মাহিগঞ্জ থানার কলাবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বদিয়ার জামান স্থানীয় ওই শিশুটিকে একা পেয়ে চিপস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নির্জন স্থানে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে পাশের একটি অন্ধকার পাটক্ষেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় শিশুটির আর্তনাদ ও ধস্তাধস্তির শব্দে স্থানীয় লোকজন সন্দেহবশত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যান। এই ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক বাদী হয়ে মাহিগঞ্জ থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আরএমপির মাহিগঞ্জ থানা-পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে একটি বিশেষ আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামেন। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত বদিয়ার জামান এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে আরএমপির সাইবার টিমের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রাধাবল্লভপুর গ্রাম থেকে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত বদিয়ার জামান পেশায় একজন দিনমজুর। তিনি সাধারণত জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থান করলেও মাঝে মাঝে রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকায় আসতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি এলাকায় লম্পট প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত এবং তিনি একাধিক বিয়েও করেছেন।
আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আজ (বুধবার) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার শিকার শিশুটির পরিবার যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দ্রুত আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করবে।” শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় আরএমপি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

